নিজস্ব প্রতিবেদক ।। অনিয়মের অভিযোগ এনে সাভার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড নির্বাচনের ভোট পুনরায় গণনার আবেদন করেছেন চারজন মেম্বার পদপ্রার্থী। তারা হলেন, তালা প্রতীকের নুরুল ইসলাম নুরু, আপেল প্রতীকের আনোয়ার হোসেন আনু, টিউবওয়েল প্রতীকের আসাদুজ্জামান ইউসুফ এবং ফুটবল প্রতীকের আব্দুর রহমান। এ বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে সাভার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ হয়। সেখানে বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত করে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হন বিএনপি সমর্থিত মেম্বার পদপ্রার্থী আব্দুল করিম।
মেম্বার পদে প্রার্থীরা ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনে বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে আমাদের সঙ্গে। সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোটদানে বাধা, মৃত ব্যক্তির ভোটদান, আমাদের এজেন্টের কাছ থেকে ভোট শেষ না হওয়ার আগে জোরপূর্বক ভোট গণনার বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়েছে। তাই আমরা চাই, নতুন করে ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হোক।‘
প্রার্থীরা আরো দাবি করেন, ‘নির্বাচনি কেন্দ্র হতে প্রিজাইডিং অফিসারের ঘোষিত ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা যায় যে, আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে আমাদের মার্কায় গ্রহণকৃত বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা করে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এ সময় বৈদ্যতিক পাখার প্রার্থী আব্দুল করিমকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আমাদের সবাইকে প্রশাসনের মাধ্যমে জোরপূর্বক এলাকা ছাড়া করার ফলে আমরা কেউ ফলাফল শুনতে পারিনি কিংবা কে কত ভোট পেয়েছে সেটাও জানানো হয়নি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তারা রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিজয়ী ঘোষনা করে নেয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে পরদিন সকালে পুনরায় সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ভোট গণনার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি তা করেননি।’
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অদ্য ০৫/০১/২২ তারিখে সকাল ৮ টা হইতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে চাপাইন নিউ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কেন্দ্র নং – ১,২,৩,৪) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পর আমাদের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরবিহীন প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবং কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর এজেন্টকে ফলাফলের সিট এর কোন কপি প্রদান না করে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
নির্বাচনী হামলা,জাল ভোট ও অর্থ নিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে.? জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো: ফকর উদ্দিন সিকদার বলেন, এ মুহুর্তে অভিযোগের সমাধান করা সম্ভব নয়। এসময় তার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নির্বাচন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব অভিযোগ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন তিনি।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম